অটোপাইলট ব্রেন বনাম অবচেতন মন

 অটোপাইলট ব্রেন বনাম অবচেতন মন

মানুষের মস্তিষ্ক এক অসাধারণ যন্ত্র। আমাদের প্রতিদিনের আচরণ, সিদ্ধান্ত অভ্যাসের বড় অংশ ঘটে সচেতনভাবে নয়, বরং অটোপাইলট ব্রেন এবং অবচেতন মনের মাধ্যমে।

 



অটোপাইলট ব্রেন

অটোপাইলট ব্রেন এমন কাজগুলো নিয়ন্ত্রণ করে যেগুলো আমরা অভ্যাসে পরিণত করেছি বা বারবার করি। এটির তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা খুব সীমিতপ্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪০৫০ বিট তথ্য সামলাতে পারে।

উদাহরণ:

  • চেনা রাস্তায় গাড়ি চালাতে চালাতে অন্য কিছু ভাবা
  • হাঁটার সময় প্রতিটি পদক্ষেপ লক্ষ্য না করা
  • টাইপ করার সময় প্রতিটি কী আলাদা করে না ভেবে লেখা

➡️ সুবিধা: মানসিক শক্তি বাঁচায়
➡️ সীমাবদ্ধতা: নতুন কিছু তৈরি করতে পারে না, শুধু শেখা জিনিস চালায়

অবচেতন মন

অবচেতন মন অনেক শক্তিশালী। এটি প্রতি সেকেন্ডে লক্ষ লক্ষ বিট তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করে। পরিবেশ স্ক্যান করে, সংকেত ব্যাখ্যা করে এবং আমাদের আচরণে প্রভাব ফেলেপ্রায় সবসময় আমাদের অজান্তে।

উদাহরণ:

  • হঠাৎ অচেনা জায়গায় ভয় বা অস্বস্তি অনুভব করা
  • মুহূর্তের মধ্যে রাগ বা আনন্দ প্রকাশ
  • হঠাৎ সৃজনশীল আইডিয়া বা "gut feeling" পাওয়া
  • শৈশব থেকে গড়ে ওঠা বিশ্বাস বা অভ্যাস আমাদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলা

➡️ সুবিধা: দ্রুত, সৃজনশীল, অভিযোজনক্ষম
➡️ সীমাবদ্ধতা: নেতিবাচক বিশ্বাস বা ভীতি থাকলে এগুলোও গভীরভাবে প্রভাব ফেলে

সফল মানুষরা কোনটা ব্যবহার করেন?

সফল মানুষরা দুটি সিস্টেমই কৌশলে ব্যবহার করেনঃ

  • অটোপাইলট ব্রেন দিয়ে অভ্যাস, শৃঙ্খলা, রুটিন ঠিক রাখেন (যেমন সময় ব্যবস্থাপনা, প্রতিদিনের কাজ)
  • অবচেতন মনকে ইতিবাচকভাবে প্রোগ্রাম করেন (ভিজ্যুয়ালাইজেশন, ইতিবাচক চিন্তা, আত্মবিশ্বাস, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য)

👉 সাধারণ মানুষ বেশিরভাগ সময় অটোপাইলটে বাঁচেন।
👉 সফল মানুষরা সচেতনভাবে অবচেতন মনকে গড়ে তোলেন এবং রুটিনকে কাজে লাগান।

সারাংশ

  • অটোপাইলট ব্রেন: প্রতি সেকেন্ডে ৪০৫০ বিট তথ্য, অভ্যাস রুটিন নিয়ন্ত্রণ করে।
  • অবচেতন মন: প্রতি সেকেন্ডে লক্ষ লক্ষ বিট তথ্য, বিশ্বাস, আবেগ সৃজনশীলতা নিয়ন্ত্রণ করে।
  • সফলতার চাবিকাঠি: রুটিনকে অটোপাইলটে রাখা, আর অবচেতন মনকে ইতিবাচকভাবে প্রোগ্রাম করা।

📚 রেফারেন্স

  • ড্যানিয়েল কাহনেমান (2011), Thinking, Fast and Slow
    👉 এখানে "সিস্টেম" (অটোপাইলট/দ্রুত মস্তিষ্ক) "সিস্টেম" (ধীর/যুক্তিনির্ভর চিন্তা) এর পার্থক্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
  • জন . বার্গ টানিয়া চার্টর্যান্ড (1999), The Unbearable Automaticity of Being (American Psychologist)
    👉 প্রমাণ দিয়েছেন যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে, অবচেতন মনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
  • জর্জ . মিলার (1956), The Magical Number Seven, Plus or Minus Two (Psychological Review)
    👉 সচেতন মস্তিষ্ক একসাথে মাত্র ± টি তথ্য সামলাতে পারে। অর্থাৎ অটোপাইলট ব্রেনের ক্ষমতা সীমিত।
  • ডেভিড ইগলম্যান (2011), Incognito: The Secret Lives of the Brain
    👉 আমাদের অবচেতন মন কিভাবে প্রতিনিয়ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে আচরণ নিয়ন্ত্রণ করছে, তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

 

Comments

Popular posts from this blog

Natural Remedies

Empathetic Leadership Quality